হজ্জ করতে, ব্যবসায়িক কাজে, পড়ালেখার প্রয়োজনে, চাকুরির প্রয়োজনে, চিকিৎসার জন্য, ভ্রমন করতে, ঘুরতে, অবসরে বিনোদনের জন্য কিংবা অন্যান্য বিভিন্ন কাজে বিদেশে যেতে চান? সমগ্র বিশ্ব এখন হাতের মুঠোয়। আজকাল বিভিন্ন প্রয়োজনে পৃথিবীর বিভিন্ন রাষ্ট্রে ঘুরে বেড়ানো একটা সাধারণ ব্যাপারে পরিনত হয়েছে। আর এই বিদেশে যাওয়ার জন্য যে জিনিসটা আপনার প্রয়োজন তা হল পাসপোর্ট। পাসপোর্ট করা বা পাসপোর্ট তৈরি করা এক সময় ছিল খুব ঝামেলার ব্যাপার। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে পাসপোর্ট তৈরির পদ্ধতিতেও আধুনিকতার ছোঁয়া লেগেছে। এখন ঘরে বসেই পাসপোর্ট তৈরির প্রথমিক ধাপ গুলো Online-এর মাধ্যমে সম্পন্ন করা খুব সহজ। এতে আমরা আমাদের সময়ের অপচয় রোধ করতে পারি। অন্য দিকে দালালের খপ্পরের হাত থেকেও বাঁচাতে পারি। অর্থাৎ Online-এ পাসপোর্ট তৈরির মাধ্যমে আমরা আমাদের টাকা এবং সময় দুটোই বাঁচাতে পারি। তবে এর জন্য আপনাকে Online-এ পাসপোর্ট তৈরির পুরো প্রক্রিয়াটা সম্পর্কে জানতে হবে ভালভাবে । কাজটা খুব একটা ঝামেলার নয়। নিচে এ সম্পর্কে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হল।

যা যা করতে হবে আপনাকে:-

* পাসপোর্ট ফরম পূরণের জন্য এখানে log in করতে হবে।

* Home page ওপেন হবে।

* পাসপোর্ট সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্যের জন্য হোম পেজের ডান পাশে অবস্থিত Service box-এ Apply online for mrp অংশে ক্লিক করতে হবে।

* এরপর Continue to online enrollment ট্যাবে ক্লিক করে Online Application Form-টি আনতে হবে। ফরমটাতে বেশ কিছু তথ্য চাওয়া হয়েছে। তথ্য গুলো সঠিক ভাবে ইনপুট করতে হবে।

* ফরমটির উপরের অংশে Delivery Type-এর নিচে Supporting Document নামে একটি বক্স আছ। বক্সটি সর্ব সাধরণের জন্য নয়। এটি পূরণ করবেন শুধুমাত্র সরকরি কর্মকর্তা-কর্মচারী, আধাসরকারি, স্বায়াত্তশাসিত ও রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার স্থাষী কর্মকর্তা-কর্মচারী, অবসরপ্রাপ্ত সরকরি চাকুরিজীবীগন।

* সাধারণ নাগরিকগন Passport Type অংশের Ordinary অংশ সিলেক্ট করবেন।

* ৩০ দিনের জন্য হলে Delivery Type অংশে Regular এবং ১৫ দিমের জন্য হলে Express অংশ সিলেক্ট করুন।
এবার online ছেড়ে ঘরের বাইরে নামার পালা-

পাসপোর্ট করার জন্য আগে থেকেই সরকার নির্ধারিত ব্যাংকে পাসপোর্ট ফি’র সমুদয় অর্থ ব্যাংকে জমা দিয়ে রশিদ কেটে রাখতে হয়। রশিদটি সযত্নে সংরক্ষণ করতে হয়।

এরপর আপনাকে আবার online-এ ফিরে আসতে হবে।

* আগের ঐ ঠিকানায় একটি নতুন ফরম পওয়া যাবে। ফরমটিতে টাকা জমা দেওয়ার ব্যাংক রশিদের নম্বরটি বসাতে হবে।

* ভালভাবে দেখে বা চেক করুন, আপনার দেওয়া সব তথ্য সঠিক আছে কিনা। সব তথ্য ঠিক থাকলে ফরমটির একটি প্রিন্ট কপি বের করে আপনার নিকটস্ত অথবা সুবিধামত পাসপোর্ট অফিসে চলে যান। রাজশাহী পাসপোর্ট ও ভিসা অফিস

* আবেদন পত্রটি দায়িত্বরত কর্মকর্তা কতৃক ভেরিফিকেশন করাতে হবে। দায়িত্বরত কর্মকর্তা আবেদন পত্রটি ভালভাবে যাচাই বাছাই করে সিল সহ স্বাক্ষর দেবেন।

* পাসপোর্ট অফিসে কতগুলো বুথ খোলা আছে। এর যে কোন একটিতেই আবেদন পত্রটি জমা দেওয়া যেতে পারে।

* আবেদন পত্রটি যখনি জমা দেওয়া হয়, তখনি ওখানকার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা তার কম্পিউটারে ফরমের তথ্য গুলো এন্ট্রি করে রাখবেন।

* ঐ দায়িত্বরত কর্মকর্তার কাছ থেকে আপনি একটা টোকেন পাবেন।

* টোকেন এবং আবেদন পত্রটি সাথে নিয়ে ছবি তোলার জন্য পাসপোর্ট অফিসের একজন নির্ধরিত কর্মকর্তার কাছে যেতে হবে।

* জাতীয় পরিচয় পত্রের জন্য কীভাবে ছবি উঠানো হয়েছিল, মনে আছে নিশ্চয়ই। ঠিক একই ভাবে নির্দিষ্ট সাইজের ছবি তোলা হবে। উল্লেখ্য পাসপোর্টের জন্য যে কোন ধরনের সাদা পোষাক গ্রহনযোগ্য নয়।

* যে কোন অপরেটরের মোবাইল সিম কার্ড কেনার জন্য যেমন ইলেক্ট্রিক মেশিনে দুই হাতের আঙুলের ছাপ দিতে হয়, ঠিক একই পদ্ধতিতে আপনাকে দুহাতের আঙুলের ছাপ দিে হবে।

* এরপর আপনাকে একটি ইলেক্ট্রনিক স্বাক্ষর করতে হবে।

* পুরো পক্রিয়াটি শেষে কতৃপক্ষ আবেদন ফরমটি জমা রেখে পাসপোর্ট সংগ্রহের তারিখ ও সময় জানিয়ে দেবেন। পাসপোর্টটি সংগ্রহের জন্য আপনাকে একটি ডকুমেন্ট সরবরাহ করবে কতৃপক্ষ।

* আবেদন ফরমটি জমা দেওয়ার সময় আবেদনকারীকে অবশ্যই স্বশরীরে উপস্থিত থাকতে হবে। কিন্তু পাসপোর্ট গ্রহনের সময় এই বাধ্যবাধকতা প্রযোজ্য নয়।

* আপনি নির্ধারিত তারিখে পাসপোর্টটি সংগ্রহ করতে পারবেন কিনা তা online-এর মাধ্যমে জেনে নিতে পারবেন।

আরও বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন: এখানে

Source: Link