Author: admin

বাঙ্গালির খাবারে রেস্টুরেন্ট সংস্কৃতি

ঈশ্বর গুপ্ত বলেছেন, “ভাত মাছ খেয়ে বাঁচে বাঙ্গালি সকল” মাছের প্রতি এই ভালোবাসার কারণে প্রাচীন কাল থেকেই বাঙ্গালিদের মাছ খেকো বাঙ্গালি বলা হতো। মাছ বাঙ্গালিদের কাছে অনেক প্রিয় হবার জন্যই বাঙ্গালি গৃহিনীরা বিশেষ যত্ন দিয়ে নানাভাবে মাছ রান্না করতেন। মাংস খাওয়া বাঙ্গালি সমাজে বিশেষ জনপ্রিয় ছিল না, কিন্তু সমাজের নিচের তলায় শামুক, কাঁকড়া, মোরগ হাঁস এবং নানা রকমের পাখির মাংস বেশ চালু ছিল। হিন্দু বিধবাদের মাছ মাংস খাওয়ার ব্যাপারে বাছবিচার থাকায় সেকালের গৃহিণীরা সব্জি রান্নায় বিশেষ বৈচিত্র এনেছিলেন তাছাড়াও নানারকম মিষ্টি, সন্দেশ, চিড়া, মুড়ি, খৈ, নানারকম পিঠা-পায়েশ এগুলো বাঙ্গালির নিজস্ব খাবার। বাংলাদেশে মুসলমানদের আগমনের ফলে মধ্যযুগের বাঙ্গালি সমাজের একাংশে...

Read More

গম্ভীরা

উত্তরাঞ্চলের বিশেষ করে রাজশাহী জেলার ভোলাহাট, গোমস্তাপুর, শিবগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রভৃতি এলাকার অতি জনপ্রিয় লোক-সঙ্গীত হলো গম্ভীরা গান। নাচ-গান এবং নানা-নাতীর কৌতুকাভিনয়ের মাধ্যমে গম্ভীরা গানে সমসাময়িক উল্লেখযোগ্য ঘটনাবলী পর্যালোচনা করা হয় এবং ব্যাঙ্গ-বিদ্রুপের মাধ্যমে দোষ-ত্রুটি তুলে ধরতে দেখা যায়। এ গানের মৃল উদ্দেশ্য হলো, সত্য ভাষণ বা গুমর ফাঁস করা। গম্বীরা গানের ওস্তাদ বা প্রবর্তনকারী শেখ সফিউর রহমান সুফি মাস্টার নামে খ্যাত। তিনি ১৮৮৭ বা ১৮৮৮ সালে ভারতের মালাদহ জেলায় ফুলবাড়ী গ্রামে জন্মগ্রহন করেন। তাঁর পিতার নাম শেখ বিসারত। শৈশবকালে তিনি পিতৃহারা এবং মাতৃহারা হয়ে লেখা পড়া বেশি দূর করতে পারেননি। ১৯০৭ সালে ডাক বিভাগে প্যাকারের চাকরীর মাধ্যমে তাঁর কর্মজীবন...

Read More

রাজশাহী অ্যাড (পর্ব ১)

সিফাত সবে এসএসসি পাস করেছে। থাকে মফস্বলের পল্লী একটি গ্রামে। বাবা আতিক সাহেব মধ্য বয়সী একজন চাকুরীজীবী। মা ভাই বোন নিয়ে পাঁচ সদসস্যের একটি সংসার। বাবার হার্টের সমস্যা রয়েছে। মা’র রয়েছে ডায়াবেটিস। তাই বড় ছেলে হয়ে একটি অজানা আতংক সব সময় তাড়া করে ফেরে সিফাতের মনে। সেদিন ছিল ভ্যাবসা গরম। আম কাঁঠাল নেমেছে কেবল। অফিস থেকে ফেরার পথে আতিক সাহেব ভাবলেন বাজারটা একটু ঘুরেই যাই আর চোখের সামনে সাজানো থরে থরে আম কাঁঠালের পসরা দেখে লোভ সামলাতে পাড়লেন না তিনি। তাই, দেখে-শুনে নিয়ে নিলেন একটি মস্ত সাইজের কাঁঠাল। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নেমেছে তখন, আতিক সাহেব পুরো পরিবার নিয়ে খুব...

Read More

ঐতিহ্যবাহী কালাই রুটি

রাজশাহী বিভাগের একটি ঐতিহ্যবাহী খাবার কালাই রুটি। বরেন্দ্র অঞ্চলের মাটি বিভিন্ন রকম ডাল উৎপাদনের জন্য অত্যান্ত উপযোগী হওয়ায় এখানে অন্যান্য ফসলের চেয়ে ডাল উৎপাদন ভাল হয়। তাই এখানকার মানুষের দৈনন্দিন খাদ্য তালিকায় ডালের প্রাধান্য দেখা যায় বেশি, হোক সে কালাই রুটি, কালাই ডালের বড়ি বা সাধারন ডালের ঝোল। কালাই রুটি খুবই সুস্বাদু এবং মুচমুচে একটি রুটি। এটি দেখতে কিছুটা থালাকৃতি এবং একটু পুরু হয়, এই রুটি তৈরীর মূল উপকরণ কালাই ডালের আটা। তবে, রুটিতে মুচমুচে ভাব আনার জন্য কালাই আটার সঙ্গে চালের গুঁড়া মেশানো হয়। এরপর বিশেষ কায়দায় হাতে এই রুটি তৈরী করা হয়। ধনে পাতার চাটনি, বেগুন ভর্তা...

Read More

সাধুর মোড়

শহরের টিকাপাড়া মহল্লার সীমানা শেষ হবার পর বড় রাস্তাটি পূর্বে রাণীনগর মহল্লার দিকে গেছে। এই রাণীনগর মহল্লার প্রথম মোড়টি সাধুর মোড় নামে পরিচিত। মোড়ের পূর্ব পার্শ্বে ছোট একটি মুদিখানার দোকান ছিল। এই দোকানের মালিক ছিলেন মোঃ সাধু মিয়া। দোকানের সাথেই ছিল তাঁর বাড়ী। সাধু মিয়া দোকান চালানোর পাশাপাশি এলাকার মৃত ব্যাক্তির জানাজার নামাজের ইমামতি করতেন। আবার তিনি টিকাপাড়া গোরস্থানের খাদেমও ছিলেন, খুব সরল মনের মানুষ ছিলেন তিনি। তাঁর কাজের সাথে তাঁর নামের বেশ সামঞ্জস্য ছিল। সময়ের সাথে সাথে মোড়টি বেশ জমজমাট হতে থাকে, মানুষ সাদু মিয়ার নামে মোড়টির নামকরণ করেন। তবে, নামটি সাদুর স্থানে হয় সাধুর মোড়। সাধুর মোড়...

Read More
error: Content is protected !!