Author: admin

হাদীর মোড়

গত শতাব্দীর সত্তর দশক পর্যন্ত ঢাকা থেকে সড়ক পথে রাজশাহী শহরে প্রবেশের একমাত্র পথছিল তালাইমারী, রাণীনগর, রামচন্দ্রপুর হয়ে আলুপট্টি। সাহেব বাজার থেকে বিশ্ববিদ্যালয় অভিমুখে যেতে রামচন্দ্রপুর মহল্লার শেষে কেদুর মোড়, এর কয়েকশ গজ পূর্ব দিকের বড় মোড়টির নাম হাদীর মোড়। এই মোড়ের পূর্ব পার্শ্ব সংলগ্ন স্থানে বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ আব্দুল হাদীর বসতবাড়ি। এই মোড়টি থেকে তিনটি রাস্তা চলে গেছে উত্তর দিকে সাধুর মোড়, পূর্ব দিকে তালাইমারী অভিমুখে এবং পশ্চিম দিকে সাহেব বাজার অভিমুখে রাস্তা চলে গেছে। বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পূর্বে মোড়টির নাম ছিল বুধু মন্ডলের মোড়। তিনি ছিলেন এলাকার মন্ডল (স্থানীয় বিচারক এবং প্রধান) ও প্রভাবশালী ব্যাক্তি আবার অন্য দিকে...

Read More

মোহনলালের মোড় / বাটার মোড়

বর্তমানে রাজশাহী শহরের “বাটার মোড়” হিসাবে পরিচিত মোড়টির পূর্বে নাম ছিল “মোহনলালের মোড়”। বিগত শতাব্দীর বিশ ও ত্রিশের দশকে শহরের ধনী মানুষদের একজন মোহনলাল রায় ছিলেন ধনাঢ্য ব্যবসায়ী। তার পূর্ব পুরুষেরা এদেশে এসেছিলেন ভারতের উত্তর প্রদেশ থেকে । মালোপাড়া টেলিফোন এক্সচেঞ্জ ভবনের বিপরীত দিকের (দক্ষিণে) বেশ বড় একটি স্থান জুড়ে ছিল তার বসতবাড়ী। শক্তি ঔষধালয়ের দক্ষিণে রুপালী ব্যাংক এবং পশ্চিমে ইন্টারন্যাশনাল ইলেকট্রিক নামে বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের দোকান- এই বিরাট অংশটুকু নিয়ে ছিল মোহনলালের বসতবাড়ী এবং রাস্তা সংলগ্ন দোকানঘর। এছাড়াও বর্তমান মুক্তা ইন্টারন্যাশনাল হোটেল ও এর দক্ষিণে ইসলামী ইন্সুরেন্স এর ভবন এগুলোর স্বত্বধিকারী ছিলেন মোহনলাল। তিনি এই শহরের হার্ডওয়ার ব্যবসার পথিকৃত...

Read More

ভূবন মোহন পার্ক / জুবিলী পার্ক

রাজশাহী শহরের কিছু স্থান রয়েছে যেগুলোর রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট। তেমনই একটি জায়গার নাম হলো ভূবন মোহন পার্ক। পার্কটি এখন পর্যন্ত রাজশাহীবাসীর কাছে বিশেষ ঐতিহাসিক তাৎপর্য বহন করে চলেছে। বিংশ শতাব্দীর শুরুতে রাজশাহী শহরে বসবাসকারী চলনবিল অঞ্চলের জমিদার এবং পৌরসভার চেয়ারম্যান ভূবনমোহন মৈত্র শহরের মালোপাড়া এলাকায় অবস্থিত একটি পরিত্যাক্ত ডোবা ভরাট করে ছোট একটি পার্ক নির্মাণ করেন। ১৮৯৭ সালে মহারাণী ভিক্টোরিয়ার রাজ্যাভিষেক হীরকজয়ন্তী/ডায়মন্ডজুবিলী উপলক্ষ্যে ভারতবর্ষের বিভিন্ন স্থাপনার নামকরণের হিড়িক পড়ে যায়। তখন নব নির্মিত এই পার্কটির নামকরন করা হয় জুবিলী পার্ক। সময়ের বিবর্তনে সাধারণ মানুষ একে যুগীর বাগান বলতে শুরু করে। বিগত শতাব্দীর পঞ্চাশের দশক থেকে শুরু করে স্বাধীনতা...

Read More

রাজশাহী রাজ

রাজশাহী রাজ ছিল বাংলার সুবাহদার মুর্শিদকুলী খানের সময় (১৭০৪-১৭২৭) বাংলার দ্বিতীয় বৃহত্তম জমিদার। তাঁর দৃঢ় শাসন ও কঠোর নিয়মানুবর্তী রাজস্বনীতির ফলে অনেক বনেদি জমিদার ত্রুটিপূর্ণ জমিদারি শাসন, যথাসময়ে সরকারি রাজস্ব প্রেরণে ব্যর্থতা এবং অবাধ্যতা ও বিদ্রোহের কারণে তাদের জমিদারি হারায়। নওয়াব মুর্শিদকুলী খান এ সকল জমিদারি তাঁর অভিজ্ঞ কর্মচারী এবং প্রিয় ও বিশ্বস্ত অনুচরদের মধ্যে নতুন করে ইজারা দেন। এতে সবচেয়ে লাভবান হয় রাজশাহী জমিদারি (নাটোর রাজ)। নওয়াবের এ নীতির উদ্দেশ্য ছিল বৃহৎ জমিদারি সৃষ্টি। মুর্শিদকুলী খানের বিশ্বাসভাজন হিসেবে রঘুনন্দন ১৭০৬ খ্রিস্টাব্দে তাঁর ভাই রামজীবনের নামে রাজশাহী জমিদারির একাংশ লাভ করেন। পরবর্তীতে বানুগাছির জমিদার, ভাটুরিয়া পরগনা ও নিজ-রাজশাহী, নলদী...

Read More

রাজশাহী শহর রক্ষা বাঁধের সূচনা

পদ্মার ভাঙ্গাগড়ার সাথে রাজশাহী শহরের ভাগ্য জড়িত। প্রায় পঞ্চদশ শতকে এ শহরের দক্ষিনে দুই থেকে আড়াই মাইল দূর দিয়ে মহানন্দা নদী পশ্চিম থেকে দক্ষিনে প্রবাহিত হত। এ সময়ে মহানন্দার ৩/৪ মাইল দক্ষিনে পদ্মা প্রবল ছিল। পরে পদ্মা বাম দিকে সরে এসে মহানন্দাকে গ্রাস করে ফেলে। প্রকৃতির তাড়নায় বান-বন্যায় ভরা যৌবনোদ্দম এই রাক্ষসী পদ্মা বহুবার পথ পরিবর্তন করে বহু পুরাতন বাজার-বন্দর, বৃক্ষ শোভিত গ্রাম, শস্য-শ্যামল মাঠ প্রান্তর, বহু মসজিদ-মন্দির, দালান-কোঠা প্রভৃতি কত কীর্তি যে ধ্বংস করেছে তার ইয়ত্তা নাই। রাজশাহীর পুরাতন বর্দ্ধিষ্ণু গ্রাম চর সাঁইপাড়া, কাদিরপুর, শ্রীরামপুর, সাহেবগঞ্জ, নবীনগর, হাবাসপুর, নওয়াবগঞ্জ-বাজার, বাশরী প্রভৃতি গ্রাম পদ্মা গর্ভে সমাধিস্থ হয়েছে। উনবিংশ শতকের...

Read More
error: Content is protected !!